মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এই দিনেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন পীর শাহ মুহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ রহ.

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ছারছীনার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করা একজন ব্যতিক্রমী সাধকের নাম—পীর শাহ মুহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (রহ.)। ইসলামি চিন্তাধারা, আধ্যাত্মিক সাধনা ও সমাজ সংস্কারে তার অবদান আজও লাখো মানুষের হৃদয়ে স্পন্দন তোলে।

বাংলা ১৩৫৭ সনে (১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ), পিরোজপুর জেলার ছারছীনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান সাধক। তার পিতা ছিলেন শাহ আবু জাফর মুহাম্মদ সালেহ (রহ.), একজন বিশিষ্ট আলেম ও তরিকার পীর। ছোটবেলা থেকেই তিনি পিতার কাছ থেকে ইলম ও আধ্যাত্মিক শিক্ষায় দীক্ষা লাভ করেন।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, শৈশবেই অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে তার বিশেষত্ব প্রকাশ পায়। একটি ‘কাঁচা কলা পাকা’ হওয়ার গল্প এখনও স্থানীয়দের মুখে মুখে ফেরে, যা তাকে “আল্লাহপ্রেমিক” শিশু হিসেবে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছিল।

১৯৮০ সালে ফুরফুরা শরিফের পীর হযরত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মদ আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী (রহ.)-এর কন্যার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এর মাধ্যমে দুটি আধ্যাত্মিক বংশের একত্রীকরণ ঘটে, যা পরবর্তীতে ইসলামের খেদমতে এক যুগান্তকারী ধারা সৃষ্টি করে।

ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন শত শত দ্বীনিয়া মাদরাসা। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানে তার অনুমোদিত মাদরাসাগুলোর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়।

তার রচিত বই—মিলাদ শরিফ ও বারো চাঁন্দের ফজিলত, খুতবায়ে ছালেহিয়া, চল্লিশ হাদিস, চারি তরিকার শাজরা প্রভৃতি—ধর্মীয় শিক্ষার ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।

এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম, রোহিঙ্গা, ফিলিস্তিন ও তুরস্কের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করেন।

১৯৯৯ সালে ইরাকের ইসলামিক স্কলার শায়খ হুসাইন হামদান ছারছীনা মাহফিলে এসে তাকে সম্মাননা দিয়ে বলেন:
“ইন্নাহু মোহেব্বুল্লাহ ওয়া মোহিব্বুদ্দীন ওয়া মোহেব্বুল মোস্তফা।”
এই স্বীকৃতি শুধু তার নয়, বরং ছারছীনা দরবার শরিফের আধ্যাত্মিক উচ্চতা বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করে।

তার জীবনকর্ম ও জ্ঞানের গভীরতায় ‘মুজাদ্দিদে জামান’ (যুগের সংস্কারক) ও ‘বাহরে শরিয়ত’ (শরিয়তের সাগর) উপাধিতে ভূষিত হন। এই দুটি উপাধিই তার বর্ণাঢ্য জীবনের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি।

আশুরার রাতে, ১০ মহরম ১৪২৯ হিজরিতে (সাল ২০০৭), তিনি ইন্তেকাল করেন। জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, তিনি কতটা হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

বর্তমানে তার বড় পুত্র শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমেদ হোসাইন (মা.জি.আ.) ছারছীনা দরবারের পীর ছাহেব হিসেবে দ্বীনী খেদমত চালিয়ে যাচ্ছেন।

পীর শাহ মোহেব্বুল্লাহ (রহ.) ছিলেন কেবল একজন পীর বা আলেমই নন, ছিলেন একজন আদর্শ সংস্কারক, মানবিক সংগঠক ও চিন্তানায়ক। তার জীবনী আমাদের শিক্ষা দেয় কিভাবে ইলম, আমল ও খেদমতের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ ইসলামী জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।

তার রেখে যাওয়া আলোকবর্তিকা আজও পথহারা মানুষের আশ্রয়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন