বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নিরাপত্তার নামে নিপীড়ন: ইসরায়েলের মুসলিম নাগরিকদের দিনকাল

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দখলদারিত্ব, বৈষম্য আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিশ্বব্যাপী আলোচিত দেশ ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত এই রাষ্ট্রের নাগরিকদের একটি বড় অংশ মুসলিম হলেও, তাদের জীবনযাপন আজও সীমাহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ মুসলমান। সবচেয়ে বেশি মুসলিমের বসবাস জেরুজালেমে, সংখ্যাটি প্রায় ৩৮০,০০০। যদিও তারা ভোটাধিকারসহ সাংবিধানিক কিছু সুবিধা ভোগ করেন, বাস্তব জীবনে বঞ্চনা, বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতা যেন তাদের নিত্যসঙ্গী।

বিভিন্ন শহরে মুসলিমদের ভূমি মালিকানা, নির্মাণ অনুমতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি চাকরিতে প্রবেশে রয়েছে জটিলতা। নাগরিক অধিকার থাকলেও মূলধারার রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা প্রায় অদৃশ্য।

একজন আরব মুসলিম তরুণের মন্তব্য, “আমরা রাষ্ট্রে আছি, কিন্তু রাষ্ট্র আমাদের মধ্যে নেই।”

তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। মার্কিন লেখিকা ও অ্যাক্টিভিস্ট আইজা মেরক ইসরায়েলের হাইফা শহরকে বলছেন “নো নিউজ সিটি”। তার ভাষায়, “এই শহরে মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানরা চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করছে।”

তিনি আরও জানান, একটি হাসপাতালে তিনি দেখেছেন যেখানে ৫০ শতাংশ চিকিৎসক মুসলিম, বাকিরা ইহুদি—সবাই একসঙ্গে জীবন বাঁচাতে কাজ করছেন।

ইসরায়েলের মুসলিমরা ধর্মীয় স্বাধীনতা পায়—মসজিদে নামাজ, ইসলামি শিক্ষা ও ঈদ উদযাপন করতে পারে। তবে বিশেষ সময়গুলোতে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশসহ কিছু ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়, যার পেছনে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখায় কর্তৃপক্ষ।

মাত্র এক মাস আগেই, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে একটি উগ্রপন্থী ইহুদি মিছিল থেকে শোনা যায় ‘আরবদের মৃত্যু হোক’, ‘তোমাদের গ্রাম জ্বলে যাক’—এমন স্লোগান। সেদিন আল-আকসা মসজিদ, এমনকি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার অফিসেও আগ্রাসীভাবে প্রবেশ করে মিছিলকারীরা।

মুসলিম দোকানপাটে হামলা, ফিলিস্তিনিদের ওপর থুতু নিক্ষেপ—এমন নানা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর উঠে আসে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

একদিকে উন্নত নাগরিক অবকাঠামো, অন্যদিকে বিভাজনমূলক নীতির বাস্তবায়ন—এই বৈপরীত্যের মাঝেই ইসরায়েলের মুসলমানরা প্রতিদিন টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সমাধান শুধু রাজনৈতিক চুক্তিতে নয়, প্রয়োজন আন্তরিক সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন