২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এবং সেই আন্দোলনের গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ‘জুলাই কর্মসূচি’ ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর ও সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মাহবুবুর রহমান নাহিয়ান কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। নেতৃদ্বয় জানান, এই আন্দোলন ছিল স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় ছাত্র গণজাগরণের প্রতিফলন, যেখানে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও সরব উপস্থিতি দেখিয়েছেন।
“শহীদদের রক্ত আমাদের দায়িত্ব ও প্রেরণার উৎস,” বলেন সংগঠনের নেতারা।
ঘোষিত কর্মসূচির মূল দিকনির্দেশনা:
ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচি:
-
শহীদদের স্মরণে খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারত।
-
শহীদ পরিবার ও আহতদের সংবর্ধনা।
সচেতনতা ও প্রচার:
-
‘জুলাই স্মৃতি’ শিরোনামে অনলাইন স্মৃতিচারণ।
-
অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শাখাগুলোর অবদান তুলে ধরে ডকুমেন্টারি প্রকাশ।
-
রাস্তাঘাট ও স্থাপনার নামকরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে জেলা প্রশাসকদের স্মারকলিপি।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম:
-
‘জুলাই সংগ্রাম: মুক্তির মাইলফলক’ ও ‘নীরবতা মানে গোলামী’ শীর্ষক প্রবন্ধ, রচনা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা।
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে সেমিনার, আলোচনা সভা ও র্যালি।
-
জুলাই অভ্যুত্থান বিষয়ে লেখা স্মারক গ্রন্থ ‘পেরিয়ে রক্তভেজা পথ’ বিতরণ।
মানবিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম:
-
পথশিশুদের মধ্যে খাবার বিতরণ।
-
রক্তদান কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই অভ্যুত্থান ছিল “স্বৈরাচারী রাজনীতি থেকে উত্তরণের সূচনা বিন্দু” এবং জুলাই মাসের সংগ্রাম ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ দেখাবে।
রাজনৈতিকভাবে উত্তাল ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে এমন কর্মসূচি দেশে চলমান রাজনীতির সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শহীদ স্মরণকে ঘিরে তৈরি হওয়া আবেগ ও উদ্দীপনা নতুন প্রজন্মকে রাজনৈতিক সচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করতে পারে— এমন আশা করছেন আয়োজকরা।

