অসাধারণ দৃশ্য! কঠোর শাসক হিসেবে পরিচিত উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে দেখা গেল অশ্রুসজল চোখে, রীতিমতো কফিনে মাথা রেখে কান্নায় ভেঙে পড়তে। রাশিয়ায় যুদ্ধরত অবস্থায় নিহত উত্তর কোরিয়ান সেনাদের সম্মানে আয়োজিত এক স্মরণানুষ্ঠানে ঘটে এই ঘটনা।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, সেনাদের কফিনে দেশটির পতাকা মোড়ানো, কিম দাঁড়িয়ে নেই—হাঁটু গেড়ে বসে আছেন, হাতে কফিন ছুঁয়ে। তার মুখে গভীর দুঃখের ছাপ, চোখে পানি।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, তিনি রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক অভিযানের অনুমোদন দিচ্ছেন। এই অঞ্চলে ২০২৪ সালের শেষ দিকেই মোতায়েন করা হয় উত্তর কোরিয়ার সেনা সদস্যদের।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৬ হাজার সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। এই বিপুল ক্ষতির প্রেক্ষিতেই কিমের এই মানবিক আবেগ সামনে আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির পর থেকেই উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের গুঞ্জন শুরু হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএস জানায়, রুশ সামরিক পোশাক ও জাল নথি দিয়ে কয়েক হাজার উত্তর কোরিয়ান সৈন্য পাঠানো হয় ভ্লাদিভোস্টক ও আশপাশের সামরিক ঘাঁটিতে।
স্মরণানুষ্ঠানটি শুধু রাজনৈতিক নয়, একটি আবেগঘন বার্তাও বহন করে। যুদ্ধ কি সত্যিই ‘মহান’? নাকি কেবলই শাসকের সিদ্ধান্তে সাধারণ সৈনিকের মৃত্যুমিছিল?
কিমের এই কান্না একদিকে যেমন যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে, অন্যদিকে এক কঠোর শাসকের আবেগী মানবিক দিকও সামনে আনে, যা বিরল দৃশ্য।

