কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত ‘ফাঁদ’ যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে একজন নারীকে জনসমক্ষে হেয় ও নির্যাতনের মাধ্যমে সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহেরচর গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রী’র সঙ্গে স্থানীয় যুবক ফজর আলীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীর ঘরে প্রবেশের সময় ফজর আলীকে ‘হাতেনাতে ধরার’ নামে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সুমন ও তার সহযোগীরা সেখানে হামলা চালায়। তারা ফজর আলীকে পিটিয়ে আহত করে এবং পরবর্তীতে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া খোকন বলেন,
“পরকীয়ার অভিযোগ থাকলেও এভাবে একজন নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও করা কোনোভাবেই মানবিক বা আইনসম্মত নয়। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
একইসঙ্গে ইউপি সদস্য আবদুল করিম জানান,
“ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল। সুমনের নেতৃত্বে একটি দল এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।”
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন,
“আমরা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছি। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এর নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন।”
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান,
“এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণের মতো পৈশাচিক ঘটনায় যারাই জড়িত, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
ঘটনার সূত্রে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেকে মুখ খুলতে রাজি হননি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে নীরবতা ভাঙা অত্যন্ত জরুরি।

