বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

“শাসন নয়, পরিবর্তনের ডাক” — ১৬ দফা দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে জনস্রোত

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি শক্তিশালী বার্তা দিল। হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে দলটি ঘোষণা করে ১৬ দফা দাবির একটি প্রস্তাবনা, যার মাধ্যমে তারা দাবি করেছে একটি “শোষণমুক্ত, সুশাসনভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ” গঠনের।

দলটির মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই দাবিসমূহ পাঠ করেন। তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে চেতনা আমরা বহন করছি, এই ১৬ দফা তারই রূপরেখা। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া বাংলাদেশে শান্তি সম্ভব নয়।”

ঘোষণাপত্রে উত্থাপিত ১৬ দফা দাবিসমূহ হলো-

১. সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতিরূপে পুনঃস্থাপন।
২. সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন।
৩. জুলাই সনদের ঘোষণা ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণে জাতীয় ঐকমত্য।
৪. ভবিষ্যৎ স্বৈরাচার ও দলীয় কর্তৃত্ববাদ রোধে মৌলিক রাষ্ট্র সংস্কার।
৫. সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনে ফ্যাসিবাদী প্রভাবমুক্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৬. পতিত ফ্যাসিবাদের বিচার ও পলাতক অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
৭. পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার ও দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ।
৮. সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুন-খারাবি রোধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা।
৯. ভারতের সঙ্গে করা সব চুক্তি প্রকাশ ও দেশবিরোধী চুক্তির বাতিল।
১০. জাতীয় নির্বাচনের আগে সব পর্যায়ে স্থানীয় নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান প্রণয়ন।
১১. দুর্নীতিবাজ, ঋণ-খেলাপি ও সন্ত্রাসীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা।
১২. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
১৩. ঘুষ-দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
১৪. ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী কর্মকাণ্ডে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।
১৫. জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের প্রতিহত করা।
১৬. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামের আলোকিত আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান।

সমাবেশে আমির মুফতি রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেন, “আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করছি না, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছি। এই সমাবেশ শুধু প্রতিবাদ নয়, ভবিষ্যতের বাংলাদেশের খসড়া রূপরেখাও।”

রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচনী অনিয়ম এবং প্রশাসনের দলীয়করণের অভিযোগের মধ্যে এই মহাসমাবেশ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক একে ইসলামী আন্দোলনের ‘রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ’ হিসেবে দেখছেন।

উপস্থিত নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে পরিবর্তনের বার্তা বহন করছিলেন। ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা পাক’, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই’ ইত্যাদি স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে পুরো উদ্যানজুড়ে। মূল মঞ্চে সতর্ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, তবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল পুরো সময়জুড়ে।

এই সমাবেশকে জুলাই মাসের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তাপের প্রারম্ভিক পর্ব বলেও দেখছেন অনেকে। ইসলামী আন্দোলনের ভাষায় এটি ছিল “জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ধিত ধাপ”।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন