ওয়াশিংটন যদি ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতি রয়েছে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সম্প্রতি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আরাঘচি বলেন, “যখন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন দুই পক্ষই একে অপরকে আক্রমণ করে—এটা আন্তর্জাতিক বাস্তবতা। আত্মরক্ষা প্রতিটি দেশের স্বীকৃত অধিকার।” ইরান যদি লক্ষ্যবস্তু হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি কিংবা সেনাদের উপর আঘাত হানার বিষয়েও তারা প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক আরও বলেন, “সবকিছু থামিয়ে দিতে ওয়াশিংটন থেকে তেল আবিবে একটি টেলিফোন কলই যথেষ্ট।” তার বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে বর্তমান সংঘর্ষ বন্ধ করা সম্ভব।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ও সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা এড়াতে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক পথ খোলা রাখতে চায় এবং প্রয়োজনে ইরানকে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সময় দিতেও প্রস্তুত।
গত ১৩ জুন রাতে ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে, যার জবাবে তেহরান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা হামলা চালায়। এর পরবর্তী কয়েকদিনে উভয় দেশই পরস্পরের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। হতাহতের পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এই উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

