বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

হরমুজে উত্তেজনা, সমুদ্রপথে ঝুঁকি—ব্যাহত হতে পারে বাংলাদেশের রপ্তানি ও আমদানি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় হরমুজ প্রণালি হয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মারাত্মক বাধা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই সামুদ্রিক পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশ যেসব গার্মেন্ট পণ্য ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানি করে এবং জ্বালানি তেল আমদানি করে, সেসব জাহাজ এখন বাধার মুখে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তালিকাভুক্ত তেলবাহী ট্যাংকার কোম্পানি ‘ফ্রন্টলাইন’ জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা উপসাগরমুখী নতুন কোনো জাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছে।রপ্তানি ও আমদানি

চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক বোর্ড সদস্য জাফর আলম বলেন, “হরমুজ প্রণালির চলমান অনিশ্চয়তা চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এখান থেকে ইউরোপ ও আমেরিকামুখী রপ্তানি ব্যাহত হবে, যা শেষ পর্যন্ত পুরো দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন জানান, হরমুজ বন্ধ হলে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। বীমার খরচও বেড়ে যেতে পারে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৯ শতাংশ বেড়ে ৭৫.৬৫ ডলার/ব্যারেল-এ পৌঁছেছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, এর প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়তে পারে। দাম পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি বিবেচনায় আছে বলে জানান বিপিসি চেয়ারম্যান।

বিকল্প রুট হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যাতায়াত করতে হলে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে। লোহিত সাগরও হুতি হামলার কারণে নিরাপদ নয়।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বলেন, “গত বছরের মতো আবারও বড় শিপিং কোম্পানিগুলো লোহিত সাগর এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে। এতে জাহাজ চলাচলে বিলম্ব হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে সমন্বিত কৌশল নিতে হবে—বিশেষ করে বিকল্প সরবরাহ পথ, পণ্য পরিবহনে অগ্রিম পরিকল্পনা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নিতে হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন