মাদক কারবারে জড়িতদের রাজনীতিতে থাকার সুযোগ নেই: ইশরাক
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক সেমিনার
মাদক কারবারের সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, মাদক কারবারে জড়িত কোনো ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকার নেই। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদের মুখোশ উন্মোচন করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, মাদকের হটস্পটগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কিছু কুচক্রী মহল কারবার পরিচালনা করে। মাদকের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কিংবা পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে তা প্রকাশ্যে এনে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে নানা কৌশলে সারা দেশে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কারবারে কয়েকটি পরিচিত পরিবহন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার কথা শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ভুঁইফোড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ইশরাকের দাবি, একটি গোষ্ঠী ভূরাজনৈতিক স্বার্থে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে সমাজ ও জাতিকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের একটি অংশ গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, দেশে মাদকের সহজলভ্যতা এর বিস্তার বাড়ার অন্যতম কারণ। বর্তমানে গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি অনলাইনে অর্ডার করলেও ঘরে মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে মাদক কারবারিরা রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে। তাই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে মাদক ব্যবসায় সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে সাধারণত মাদকসেবী, বহনকারী ও ছোট কারবারিরা ধরা পড়লেও মূল হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে নানা অভিনব কৌশল। দোকান, ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র, যাত্রীবাহী যানবাহনের গোপন চেম্বার, এমনকি পাকস্থলী ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারির ভেতরেও মাদক বহনের ঘটনা ঘটছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে মূল প্রবন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেমিনারে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ এবং মনোচিকিৎসাবিদ্যার অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামাল।
এ ছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. মুন্না হুসাইন এবং ইডেন মহিলা কলেজ বিতর্ক দলের দলনেতা মাসনুন নাবিলা আলম।
সাবেক জাতীয় বিতার্কিক মো. কাউছার আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। ‘মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানে আয়োজিত সেমিনারটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ও ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব।


