খুলনায় প্রধানমন্ত্রী

শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ

জাতীয়
শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
৫ নভেম্বর ২০২৬

শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।’

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শিশুদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়ালেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায়ও পারদর্শী হতে হবে। কারণ, বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দক্ষতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পড়াশোনা শেষে কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি কিংবা আইনজীবী হবে। তবে পেশাগত শিক্ষার পাশাপাশি তাদের খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও জানতে হবে।

বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নিয়ে নিজেদের বহুমুখী দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। দেশের অন্য শিশু-কিশোরদেরও এভাবে নিজেদের প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে।

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা পড়ালেখা করতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, একইভাবে শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে পারো।’

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী জুনে এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের শিশু-কিশোররা অনলাইনে এ প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক শিশুর অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই। তাদের প্রতিভা বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিশুরা নির্বিঘ্নে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে। এ জন্য পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।

শিশুদের তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে তারা।

তারেক রহমান বলেন, পড়ালেখা, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষতার পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা আয়ত্ত করতে পারলে বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধাই শিশুদের আটকে রাখতে পারবে না।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, একদিন বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে, যা বিশ্ববাসীর কাছে উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তখন বাংলাদেশকে অন্য দেশের উদাহরণ অনুসরণ করতে হবে না, বরং অন্যরা বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে।

এর আগে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও উপভোগ করেন তিনি।