অন্তর্বর্তী সরকারের সার্বিক কাজের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগ-এ একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (৩ মে) সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ জনস্বার্থে এই রিটটি দাখিল করেন। রিটে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত আইন, গঠিত সংস্কার কমিশন এবং দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আবেদনে এসব কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য একটি তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কিনা, সেটিও অনুসন্ধানের আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটে কেবিনেট সচিব ও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। বিষয়টি সোমবার (৪ মে) নিশ্চিত করে আইনজীবী মুহসিন রশিদ জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে তিনি দুপুরে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও একই আইনজীবী রিট দায়ের করেছিলেন, যা হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে, আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন ও শপথকে বৈধ ঘোষণা করে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
সরকার গঠনের আগে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাইলে, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান-এর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ জরুরি পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বৈধতা নিয়ে ইতিবাচক মতামত দেয়।
নতুন এই রিটের মাধ্যমে আবারও অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হলো।


