রাজধানীতে আগের ভাড়াতেই চলছে গণপরিবহন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-এ। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর গণপরিবহনের ভাড়াও সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বাস্তবে রাজধানীতে এখনো আগের ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করছেন বাসচালকরা।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এবং আন্তজেলা বাসে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেই সিদ্ধান্তের প্রয়োগ এখনো দৃশ্যমান নয়।
শুক্রবার রাজধানীর শ্যামলী, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও আগারগাঁও এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাসেই আগের ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। যাত্রীরাও জানিয়েছেন, বাড়তি ভাড়া দাবি করা হচ্ছে না।
মিরপুর থেকে পল্টনগামী যাত্রী মাহিম বলেন, “আমরা দুজন এসেছি, আগের ভাড়াই নিয়েছে।” একই অভিজ্ঞতা জানান ফার্মগেটের যাত্রী স্বপন ও কারওয়ান বাজারের যাত্রী মিঠুনও।
অন্যদিকে, পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, ভাড়া না বাড়ানোয় তারা আর্থিক চাপে পড়েছেন। একাধিক বাসের সহকারীরা জানান, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন প্রতি গাড়িতে অতিরিক্ত প্রায় ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ বাড়ছে। কিন্তু নতুন ভাড়া কার্যকর না হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীরা উল্টো আগের চেয়েও কম ভাড়া দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা। এতে করে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে তাদের দাবি।
এদিকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সম্প্রতি জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
পরে পরিবহন ভাড়া সমন্বয় করে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, মহানগর এলাকায় বাসভাড়া প্রায় ৪.৫ শতাংশ এবং আন্তজেলায় ৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ভাড়া আগের মতো ১০ টাকাই রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা থাকলেও তা বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় একদিকে যাত্রীদের স্বস্তি মিলছে, অন্যদিকে পরিবহন খাতে চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


