বিদেশে কর্মী পাঠাতে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদ-এ প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানানো হয়।
সংসদে দেওয়া উত্তরে তারেক রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া-এর শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দেশ—যেমন সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেডিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া—এ শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ড-এর সঙ্গেও কর্মী পাঠানোর বিষয়ে চুক্তি প্রক্রিয়া চলছে।
সরকার বিদেশে কর্মী পাঠাতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে স্থানীয় লবিস্ট বা বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পরিকল্পনাও নিয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে সম্ভাব্য শ্রমবাজারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদল সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর করেছে, যা দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংসদে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ‘ব্লু ইকোনমি’ উন্নয়নের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এছাড়া শিক্ষা খাতেও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্টদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শ্রমবাজার খোঁজার এই উদ্যোগ দেশের বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


