বৈশ্বিক সংঘাতে জ্বালানি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, দ্রুত কমছে তেলের মজুত
ইরান-এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার পর সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-এও, যেখানে তেলের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে সাধারণত ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রাখার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সেই মজুতে টান পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বালানি ডিজেলের ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। মার্চ মাসে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ সীমিত থাকায় মজুত দ্রুত কমে এসেছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যমান ডিজেল মজুতে আর প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
অন্যদিকে অকটেনের মজুত নেমে এসেছে মাত্র কয়েক দিনের চাহিদার সমপর্যায়ে। পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাপ রয়েছে, যদিও জেট ফুয়েলের মজুত তুলনামূলক কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।
জ্বালানি সংকটের পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়া ছাড়াও দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় কনডেনসেট উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। পেট্রোবাংলা-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে গ্যাস উৎপাদন দৈনিক প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কনডেনসেট কমে যাওয়ায় পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন বলেন, উৎপাদনের উৎসগুলোতে ঘাটতি এবং বাজারে সম্ভাব্য সিন্ডিকেটের প্রভাব খতিয়ে দেখা জরুরি।
এদিকে পেট্রোল পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকেও সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম দাবি করেন, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় কিছু বেসরকারি কনডেনসেট রিফাইনারি সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
তবে বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে চাপ থাকলেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় মজুত ও আতঙ্কিত কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে এবং দেশীয় উৎপাদন না বাড়লে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি খাতে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ।


