এবারের মেলায় ১৭ দিনে ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি

জাতীয়
এবারের মেলায় ১৭ দিনে ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি
নিউজ ডেস্ক
১৫ মার্চ ২০২৬

 

এবারের অমর একুশে বইমেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মেলার প্রথম ১৭ দিনে বই বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মেলায় অংশ নেওয়া ২৬৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তাদের বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা।

মেলা পরিচালনা কমিটি জানায়, গড় হিসাব করলে ৫৭০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রি প্রায় ১৭ কোটি টাকার কাছাকাছি। এদিকে বাংলা একাডেমি ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই বিক্রি করেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এবারের বইমেলায় মোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি মিডিয়া ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং ৫৭০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। মেলার তথ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে কম ইউনিট পাওয়া প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বেশি ইউনিট পাওয়া প্রতিষ্ঠানের চেয়েও বেশি হয়েছে। মেলায় বাংলা একাডেমিসহ সব প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে।

মেলার তথ্যকেন্দ্রের হিসাবে, ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে ১ হাজার ৭৭১টি নতুন বই জমা হয়েছে। তবে সব প্রকাশিত বই তথ্যকেন্দ্রে জমা না হওয়ায় প্রকৃত নতুন বইয়ের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এ ছাড়া নিবন্ধিত মোড়ক উন্মোচিত বইয়ের সংখ্যা ২৫২টি।

রোববার (১৫ মার্চ) বইমেলার মূল মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলার প্রতিবেদন পাঠ করেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজানের কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হয় এবং মেলা চলে ১৮ দিন। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ছিল ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ হাজার ৬৮টি ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মেলা পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মাসব্যাপী বইমেলায় আনুমানিক ৪০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। ২০২৪ সালে বই বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে ছিল প্রায় ৪৭ কোটি টাকা।

এবারের মেলায় এক ইউনিটের ২৮৭টি, দুই ইউনিটের ২২৫টি, তিন ইউনিটের ৪৬টি, চার ইউনিটের ২৭টি, পাঁচ ইউনিটের ২৯টি এবং ছয় ইউনিটের ৩টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। শিশুদের জন্য ৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১১১টি ইউনিটের স্টল দেওয়া হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৯০টি স্টল বরাদ্দ করা হয়েছিল।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারের মেলায় বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া মওকুফ করা হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান আগেই ভাড়া জমা দিয়েছিল, তাদের সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজা বলেন, বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। তাই বইমেলাকে ‘মিলনমেলা’ ও ‘প্রাণের বইমেলা’ বলা হয়।