সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু: প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ঢাকা, ১২ মার্চ ২০২৬: দেশে দীর্ঘ দেড় দশক পর আবারও জবাবদিহিমূলক সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বহু মানুষের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। দীর্ঘ সময়ের শাসন-শোষণের পর জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল একটি জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হলো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল এবং জাতীয় সংসদকে কার্যত হাস্যরসের খোরাকে বানানো হয়েছিল। সেই সময়ে দেশে তাঁবেদারি শাসন ও শোষণের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন এবং কখনোই স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি।
ভাষণের শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, গুম, খুন, নির্যাতন এবং ‘আয়নাঘর’-এর মতো বন্দিশালা দিয়েও ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যায়নি। তাদের সাহসী ভূমিকাতেই দেশে গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংসদে তিনি একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জাতীয় সংসদ হবে যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যার সমাধানের প্রধান কেন্দ্র।
এদিকে নতুন সংসদের যাত্রা শুরুর সময় সাধারণত সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত থাকেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কেউ নিখোঁজ, পলাতক বা কারাগারে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন সংসদ নেতা তারেক রহমান।
এমন পরিস্থিতিতে সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য প্রবীণ রাজনীতিক ও পাঁচবারের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন তিনি।


