বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা মামলায় মূল শ্যুটার মিশু গ্রেপ্তার
যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ও শ্যুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী ওরফে মিশুকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে শহরের বেজপাড়া মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মিশুকে আদালতে হাজির করা হলে সে স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ডিবি ও আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে মিশু জানায়—আলমগীর হোসেন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহতের মেয়ে জামাই পরশ ও তার প্রতিবেশী সাগর। পরশের পরিকল্পনা অনুযায়ী এবং তার দেওয়া অস্ত্র ও অর্থ ব্যবহার করেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যার আগে প্রিন্স নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে তাকে নিয়ে যান। পরে পরশ, সাগর ও অমিসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। একপর্যায়ে পরশ তার শ্বশুর আলমগীর হোসেনকে হত্যার নির্দেশ দেন এবং অস্ত্র ও টাকা সরবরাহ করেন। এরপর অমির মোটরসাইকেলে করে আলমগীরের পিছু নিয়ে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশু বেজপাড়া চিরুনি কল এলাকার পুরোহিত মিহির চক্রবর্তী ত্রিনাথের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
যশোর ডিবির ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে মিশুকে শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি রাতে নিজ এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে পরশ ও সাগরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই মূল শ্যুটারকে ধরতে ডিবি পুলিশের অভিযান চলছিল।


