চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে ডায়রিয়া-নিউমোনিয়া, ১৫ দিনে দুই শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে
চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে ডায়রিয়া-নিউমোনিয়া, ১৫ দিনে দুই শিশুর মৃত্যু
নিউজ ডেস্ক
১৭ নভেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য, ঠান্ডা বাতাস ও রোটা ভাইরাসের সক্রিয়তায় জেলা সদর হাসপাতালে শিশু ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে নিউমোনিয়ায় দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সদর হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড সূত্র জানায়, ১ থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫৪৮ জন রোগী। এর মধ্যে শিশু ওয়ার্ডেই ভর্তি হয়েছেন ৩৬৩ জন—বেশিরভাগই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ১৮৫ জন নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগী। চিকিৎসকদের মতে, রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ার পাশাপাশি ঠান্ডাজনিত জটিলতায় ছোট শিশুদের শ্বাসতন্ত্র দ্রুত ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দুই নবজাতকেরও। আলমডাঙ্গার আইলহাঁস গ্রামের দুই দিনের নবজাতক শাহানাজ ৩ নভেম্বর রাতে ভর্তি হওয়ার পর এক ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায়। রামচন্দ্রপুর গ্রামের এক দিনের নবজাতক সালমা ৯ নভেম্বর ভর্তি হওয়ার পর পরদিন দুপুরে মৃত্যুবরণ করে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, শিশুদের হঠাৎ সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। একজন অভিভাবক মিরাজ ইসলাম বলেন, “ছেলের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত হাসপাতালে এনে ভর্তি করি। সাত দিন চিকিৎসার পর এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে।”

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রার অস্থিরতার কারণে নিউমোনিয়া দ্রুত জটিল রূপ নিচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, “ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সামান্য উপসর্গও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। গরম কাপড় পরানো, মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।”
আরেক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুল হক মালিক খোকন বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ৪০–৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে, আর বহির্বিভাগে দুই চিকিৎসক মিলে ৩০০–৪০০ রোগী দেখছি।”

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস জানান, শীতের তীব্রতার কারণে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, “শিশুসহ সব বয়সীরাই ঠান্ডা ও সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে। এ সময় সচেতন থাকলেই ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব।”