কসবায় চিকিৎসকের হাতে সহকারী মারধরের অভিযোগ, সিসিটিভি ভিডিও ভাইরাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক চিকিৎসকের সহকারীকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার অপর এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ঘটনার সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী ইয়াছিন চৌধুরী (৩৫) এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক মহিউদ্দিন মৃধার বিরুদ্ধে কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক মহিউদ্দিন মৃধা ও চিকিৎসক সৌরব সাহার পৃথক চেম্বার রয়েছে। ইয়াছিন চৌধুরী চিকিৎসক সৌরব সাহার সহকারী হিসেবে সেখানে কর্মরত। অপরদিকে, মহিউদ্দিন মৃধার সহকারী হিসেবে কাজ করেন হাসেনা বেগম।
দীর্ঘদিন ধরে হাসেনা বেগম ও ইয়াছিন চৌধুরীর মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। সেই বিরোধের জেরে সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের সড়কে ইয়াছিনকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করেন মহিউদ্দিন মৃধা। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার পাইপ সদৃশ বস্তু দিয়ে বারবার আঘাত করছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক।
পরে স্থানীয়রা ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারীরা ছুটে এসে ইয়াছিনকে রক্ষা করেন। আহত অবস্থায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ইয়াছিন চৌধুরী জানান, “চিকিৎসক মহিউদ্দিনের সহকারী হাসেনা বেগম আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলে আমি প্রতিবাদ করি। এর জের ধরেই মহিউদ্দিন স্যার আগেও আমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। সোমবার আবার রাস্তায় আমাকে পিটিয়ে আহত করেন।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক মহিউদ্দিন মৃধা বলেন, “ইয়াছিন চৌধুরী আমার সহকারীকে একাধিকবার বিরক্ত করেছে এবং মারধর করেছে। স্থানীয়ভাবে সালিশে জরিমানাও হয়েছে। এরপরও সে আমার সম্পর্কে মিথ্যা মন্তব্য করেছে। তাই আমি উত্তেজিত হয়ে তাকে মারধর করেছি। তবে আমি স্বীকার করছি—এটা করা ঠিক হয়নি।”
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, “ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আমরা দেখেছি। লিখিত অভিযোগও পেয়েছি। তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


