চাচির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় শিশুকে হত্যা: এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড, চাচির যাবজ্জীবন
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় ৭ বছর বয়সী শিশু সায়মনকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড এবং চাচিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হত্যাকাণ্ডের পেছনে চাচির সঙ্গে যুবকের অবৈধ সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ পায়।
বুধবার দুপুরে কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক সাব্বির মাহমুদ চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— বিল্লাল পাঠান (৩৫) এবং শিশুটির চাচি শেফালী বেগম।
২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট বিকেলে শিশু সায়মন মায়ের সঙ্গে বাজারে গিয়ে নিখোঁজ হয়। দুইদিন পর থানায় জিডি করেন পরিবারের সদস্যরা। ১৯ আগস্ট সকালে স্থানীয় এক মাঠের ঝোপে উদ্ধার হয় পোড়া মরদেহ, যা পরে সায়মনের বলে শনাক্ত হয়।
ঘটনার পর সায়মনের মা খোরশেদা আক্তার বাদী হয়ে তিতাস থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে উঠে আসে, চাচি শেফালীর সঙ্গে বিল্লাল পাঠানের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। শিশু সায়মন বিষয়টি দেখে ফেলায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা চালানো হয়।
আদালত অভিযুক্ত বিল্লাল পাঠানকে মৃত্যুদণ্ড এবং শেফালী বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে উভয়কে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। মরদেহ গুমের অভিযোগে তাদের পাঁচ বছর করে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও আদেশ করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ইকরাম হোসেন বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”
শিশু সায়মনের মা খোরশেদা বলেন,
“আমি সন্তুষ্ট, তবে চাই খুনিদের শাস্তি যেন দ্রুত কার্যকর হয়। আমার সন্তান হারানোর বেদনা যেন আর কোনো মা না পায়।”


