রূপপুর প্রকল্পে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ শুরু
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ইউনিট-১-এ পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের আগে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর নিরাপত্তা পর্যালোচনা কার্যক্রম। এ পর্যবেক্ষণ মিশন পরিচালনা করছে সংস্থার ১৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল, যেটি “প্রি-ওসার্ট” (Pre-OSART) নামে পরিচিত।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আইএইএ-এর সিনিয়র নিউক্লিয়ার সেফটি অফিসার সাইমন ফিলিপ মরগান এর নেতৃত্বে দলটি ইতোমধ্যে রূপপুরে অবস্থান করছে। ডেপুটি টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অপারেশনাল সেফটি সেকশন হেড জুরাজ রোভনি।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান বলেন,
“এই মিশনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে কবে রূপপুর প্রকল্পের ইউনিট-১-এ পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু করা যাবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
IAEA টিম পর্যালোচনা করবে:
-
পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো
-
প্রশিক্ষণ ও স্টাফের যোগ্যতা
-
রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা
-
বিকিরণ সুরক্ষা ব্যবস্থা
-
জরুরি অবস্থা মোকাবিলার প্রস্তুতি
-
কমিশনিং প্রক্রিয়া ও দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা
এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলবে আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত।
ড. জায়েদুল হাসান আরও জানান, রাশিয়া থেকে আনা ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ইউনিট-১-এর রিঅ্যাক্টরে স্থাপনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ‘জ্বালানি লোডিং’, যা চালু করতে হলে আইএইএ এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA)-এর অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
প্রকল্পের সাইট ডিরেক্টর প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন,
“ইউনিট-১-এর কার্যক্রম শুরু করার আগে প্রি-ওসার্ট মিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রস্তুতির প্রমাণ দেবে।”
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর এলাকায় নির্মাণাধীন। প্রকল্পটি বাংলাদেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প।


