চতুর্থবারের মতো পেছাল তিস্তা সেতুর উদ্বোধন, স্থানীয়দের ক্ষোভ

দেশজুড়ে
চতুর্থবারের মতো পেছাল তিস্তা সেতুর উদ্বোধন, স্থানীয়দের ক্ষোভ
নিউজ ডেস্ক
২ আগস্ট ২০২৫

উত্তরাঞ্চলের বহুল প্রতীক্ষিত হরিপুর-চিলমারী তিস্তা সেতুর উদ্বোধন ফের স্থগিত করা হয়েছে। চতুর্থবারের মতো পরিবর্তন হলো তারিখ। এবার নতুন করে ২৫ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পূর্বঘোষিত শনিবার (২ আগস্ট) উদ্বোধনের দিন থাকলেও শেষমুহূর্তে তা বাতিল করা হয়।

গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, চলতি বছরের জুলাই মাসে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শামীম বেপারীর সই করা এক চিঠিতে ২ আগস্ট উদ্বোধনের কথা জানানো হয়েছিল। এমনকি গত ৪ জুলাই এলজিইডি সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী সেতু পরিদর্শনে এসে জানান, সেতুটি জুলাই-আগস্টের মধ্যেই উদ্বোধন করা হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সেতুর নির্মাণকাজ বহু আগেই শেষ হলেও উদ্বোধন পিছিয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। সুন্দরগঞ্জ ও চিলমারী উপজেলার মানুষসহ উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রকল্প এটি।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন,

“এখনো কেন দেরি, কেউ বলতেও পারছে না। শুধু তারিখ বদলায়। বারবার আশ্বাস দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।”

এলজিইডির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,

“দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যস্ততার কারণে তারিখ পরিবর্তন হয়েছে।”

সেতুটির সঙ্গে প্রায় ৮০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, ৫৮টি বক্স কালভার্ট এবং ৯টি আরসিসি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে বেলকা বাজার, হাট লক্ষ্মীপুর, পাঁচপীর, ধাপেরহাটসহ ১০টিরও বেশি বাজার ও মহাসড়ক সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে।

২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর ২০১৮, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের মধ্যে সেতু চালুর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন ২০২৫ সালেও উদ্বোধনের অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সেতু শুধু দুই জেলার নয়, গোটা উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারবে। কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

তবে বারবার উদ্বোধনের তারিখ বদল, কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়া এবং রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এখন সবার চোখ ২৫ আগস্টের দিকে—এবার সত্যিই কি সেতুটি খুলে দেওয়া হবে?